• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

গ্যাস সংকটঃ ৩ মাস ধরে বন্ধ ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট

devteam
প্রকাশিত September 20, 2025
গ্যাস সংকটঃ ৩ মাস ধরে বন্ধ ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট

আল আমিন মুন্সী, নরসিংদী

গ্যাস সংকটের কারণে তিন মাস ধরে বন্ধ দেশের বৃহত্তম নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে এক হাজার ৬১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাতটি ইউনিটের মধ্যে সব ক’টি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সংকট বাড়তে থাকায় ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৭ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, সরকার সারকারখানায় গ্যাস দেওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক এ বিষয়ে জানান, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ইউনিটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই। গ্যাস পেলেই উৎপাদন শুরু হবে।

গত ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ।

২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪ নম্বর ইউনিট এবং ৭ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটে টারবাইন রোটারের ব্লেডে সমস্যা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ আছে। তবে ইউনিটটির মেরামতকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গ্যাস সংযোগ চালু হলে এটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে।

২০১০ সালের জুন মাসে অগ্নিকাণ্ডের কারণে ২১০ মেগাওয়াটের ৬ নম্বর ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া, ১৯৬৭ সালে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত ১ নম্বর এবং ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া ২ নম্বর ইউনিট বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বহুদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ দুটি পুরোনো ইউনিট ভেঙে নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

ফলে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘোড়াশাল কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।